ট্রাম্পের হুমকির মুখেও ইরানের অনমনীয় অবস্থান: পেজেশকিয়ানের হুঙ্কার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ও সময়সীমার চাপ সত্ত্বেও ইরান মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু আলোচনায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
পেজেশকিয়ানের দৃঢ় ঘোষণা
পেজেশকিয়ান তার ভাষণে বলেন, "বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে... কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।" তার এই মন্তব্য আসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে 'খারাপ কিছু' ঘটতে পারে, পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করে।
জেনেভায় আলোচনা ও চুক্তির খসড়া
জেনেভায় আলোচনার পর তেহরান বলেছে, সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া জমা দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি মনে করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটি প্রস্তুত হবে এবং আমার ঊর্ধ্বতনদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"
আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন যে মার্কিন আলোচকরা তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেননি। তিনি বলেন, "আমরা কোনো স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও শূন্য সমৃদ্ধকরণের কথা বলেনি।" তবে তার এই মন্তব্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানা গেছে।
আলোচনার বর্তমান অবস্থা
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউয়ে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, "আমরা এখন যে বিষয়ে কথা বলছি, তা হলো—ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এটি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং চিরকাল শান্তিপূর্ণই থাকবে।" এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করা।
এই পরিস্থিতিতে পেজেশকিয়ানের হুঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন জেনেভায় আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ার দিকে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তুত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
