ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপন: পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পদক্ষেপ
ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন

ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপন: পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পদক্ষেপ

ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে রামাল্লাহর কাছে শুকবা শহরের কাছে নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়, যা ইসরায়েলি সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিতর্কিত পদক্ষেপের অনুমোদন

গতকাল রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় এই পদক্ষেপগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনের অধিকৃত জমি কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে 'কার্যত একীভূতকরণ' বলে উল্লেখ করেছে, যা তাদের মতে ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি

পশ্চিম তীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে আসছে। অঞ্চলটির বড় অংশ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে শাসনকাজ পরিচালনা করে। ইসরায়েলের উগ্রপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেন, যা এই পদক্ষেপের পেছনে একটি রাজনৈতিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

জমি নিবন্ধনের নতুন প্রক্রিয়া

ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে ভোট দিয়েছে, যা ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম বিতর্কিত প্রক্রিয়া হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম তীরে বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছিল ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, 'আমরা বসতি স্থাপনের বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের ভূমির প্রতিটি অংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছি।'

ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি আসলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দখল আরও স্থায়ী করার পরিকল্পনার সূচনাপর্ব। ইসরায়েলি বসতি–বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাউ সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিম তীরের প্রায় অর্ধেক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিরা জমি হারাতে পারেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন, তবে তাঁর প্রশাসন ইসরায়েলের দ্রুত বসতি নির্মাণ ঠেকাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
  • জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং যত দ্রুত সম্ভব তা বন্ধ করা উচিত।

ইসরায়েল এই মত মেনে না নিয়ে তাদের পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।