মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর জন্য ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মিত্র দেশ ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিক্রি করা হবে এসব সামরিক সরঞ্জাম। শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তিতে যুদ্ধবিমান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে অস্ত্র চুক্তি
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার নয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পূর্ণ হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তেহরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তার মতে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিস্তারিত অস্ত্র চুক্তি
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, একটি জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোতে অবিলম্বে অস্ত্র বিক্রি করা প্রয়োজন।
- কাতার: ৪ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ পরিষেবা।
- ইসরায়েল: ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র (এপিকেডব্লিওএস) বিক্রির অনুমোদন।
- কুয়েত: ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন।
এই অস্ত্র বিক্রি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



