ইরানে হামলায় ডার্ক ঈগল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুরোধ সেন্টকমের
ইরানে হামলায় ডার্ক ঈগল মোতায়েনের অনুরোধ সেন্টকমের

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নাগালের বাইরে থেকে দেশটির অভ্যন্তরে নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালাতে মধ্যপ্রাচ্যে গোপন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ডার্ক ঈগল মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো মার্কিন নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সেন্টকম যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক দফতরের (পেন্টাগন) কাছে এই বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।

ডার্ক ঈগলের প্রথম মোতায়েন

সেন্টকমের এই অনুরোধ অনুমোদিত হলে, এটিই হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডার্ক ঈগল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম মোতায়েন এবং সম্ভাব্য ব্যবহার। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ২ হাজার ৭৭৬ কিলোমিটারেরও বেশি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফিং করেছে সেন্টকম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী সামরিক হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন

তবে ট্রাম্প ইরানকে বারবার 'পরাজিত' দেশ হিসেবে বর্ণনা করলেও, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডার্ক ঈগল মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো পারমাণবিক পরাশক্তিগুলোর উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাদের সামরিক সক্ষমতা ইরানের চেয়ে অনেক বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে যে তারা ইরানের আকাশে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, তবে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বাহিনীর হাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনও সক্রিয়।

যুদ্ধবিরতি ও পাল্টাপাল্টি অবরোধ

একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি লড়াই বন্ধ রয়েছে। তবে দুই পক্ষই এখন সমুদ্রপথে পাল্টাপাল্টি অবরোধের ওপর জোর দিচ্ছে। পারস্য উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বজায় রাখতে উভয় দেশই একে অপরের জাহাজ জব্দ করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতির সুযোগে দুই পক্ষই মূলত নতুন করে শক্তি সঞ্চয় এবং অস্ত্র মজুত করছে।

চীনের কাছ থেকে ইরানের অস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেয়েছে। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসও জানিয়েছিল, বেইজিং হয়তো ইরানকে কাঁধে রেখে ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও পাঠিয়েছে।

মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমেছে

চলতি মাসের শুরুতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক গোলাবারুদের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন এশিয়া ও ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই সংঘাতে পেন্টাগনের নির্ভুল আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ধরনের অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধে মার্কিন খরচ

বুধবার পেন্টাগন জানিয়েছিল, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলার। অন্যদিকে, ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি ডার্ক ঈগল ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণ খরচ ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র আটটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

ইরানের অ-পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

চলতি সপ্তাহে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি অ-পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা যুদ্ধ অবসানের পথ দেখাতে পারত। ওই প্রস্তাবে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলা হয়। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।