মধ্যপ্রাচ্যের ইরাকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মো. মনোহার আলী (৩৬)। তাদের দুজনের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায়।
নিহতদের পরিচয়
বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাষ্টারের ছোট ছেলে। অন্যদিকে মনোহার আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে। নিহত দুজনের পরিবার তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মনোহার প্রায় ৪ বছর আগে ইরাকে পাড়ি জমান এবং বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ইরাক যান। তবে তাদের কারো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। প্রতিদিনের মতো গত রোববার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি চলন্ত প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। এরপর স্থানীয় থানা পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে সেখানকার হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাদের মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
শোক ও দিশেহারা পরিবার
দুজনের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত মনোহারের স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে বজলুর রশীদেরও এক স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। মনোহর ঋণের টাকায় ইরাকে গিয়েছিলেন, এখনও তার সেই টাকা পরিশোধ হয়নি। আয় উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তিকে হারানোর খবরে দিশেহারা স্ত্রী সোমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গেছিলো। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এরমধ্যে তার মৃত্যুর খবর এলো। এখন আমরা কিভাবে চলমু।'
নিহত বজলুর রশীদের বড়ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, 'আমার ছোট ভাই বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। তার লাশটি যেন দ্রুত দেশে আসে। সে জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।'
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইরাকে মাদারগঞ্জের দুই যুবক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মরদেহ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা— তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন।



