মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান বাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে এই দুই দেশ গোপনে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপন হামলার দাবি
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারও তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব মার্চের শেষের দিকে ইরানে অসংখ্য বিমান হামলা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ইন্টারন্যাশনাল টিম ফর দ্য স্টাডি অব সিকিউরিটি ভেরোনার বিশেষজ্ঞ শাহিন মোদাররেস বলেন, 'এই দুই দেশের কাছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে আধুনিক এবং সুসজ্জিত বিমান বাহিনী রয়েছে। ইরানের অবকাঠামোর ওপর নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতাও তাদের আছে।'
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ভেরোনিকা হিনম্যান বলেন, 'আমিরাতের চালানো হামলার ক্ষেত্রে এমন কিছু ছবি রয়েছে, যা দেশটির সামরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।'
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিকস সম্মেলনে আরব আমিরাতকে 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সক্রিয় অংশীদার' বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, 'আমার দেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল।'
সৌদি আরবের অবস্থান
কিংস কলেজ লন্ডনের আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, 'সৌদি আরব অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা পাকিস্তান, ওমান ও কাতারের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ বেছে নিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে একযোগে কোনো যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।'
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই হামলাগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। মোদাররেস বলেন, 'উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা জোরাল করছে।'



