মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ দেশ সফরের প্রথম ধাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৫ মে) মোদির বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান বিমানটি আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতেই তাকে বিশেষ সম্মান জানায় দেশটি। আবুধাবির আকাশসীমায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় আমিরাত বিমানবাহিনীর দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
আবু ধাবিতে অবতরণের পর নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বিমানকে যুদ্ধবিমানের পাহারা দেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের গভীর কৌশলগত অংশীদারত্ব ও ব্যক্তিগত উষ্ণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
বৈঠকে মোদির বক্তব্য
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বিশেষ সম্মানের জন্য আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বিমানবাহিনীর এই এসকর্ট ভারতের জনগণের জন্য এক বড় সম্মান।’ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবেও অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, আমিরাতে প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় বসবাস করেন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইরানের উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আমিরাত সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইরান থেকে আসা আড়াই হাজারেরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করতে হয়েছে আবুধাবিকে। এ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, আমিরাতের ওপর এ ধরনের হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং যেকোনও পরিস্থিতিতে ভারত আমিরাতের পাশে থাকবে।
তেল ও এলপিজি সরবরাহ চুক্তি
ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার আঁচ লেগেছে ভারতেও। মাসখানেক ধরে চলা রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সংকট মোকাবিলায় এই সফরে আমিরাতের সঙ্গে বড় ধরনের সরবরাহ চুক্তি সই করেছে ভারত।
অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ, কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং গুজরাটের ভাদিনারে জাহাজ মেরামত ক্লাস্টার স্থাপনের বিষয়েও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে নরেন্দ্র মোদি নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি ভ্রমণে যাবেন।



