৮১তম জন্মদিনে ট্রাম্পের কেজ ফাইট ও ইরান শান্তিচুক্তি
৮১তম জন্মদিনে ট্রাম্পের কেজ ফাইট ও ইরান চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮১তম জন্মদিন ছিল গতকাল রোববার (১৪ জুন)। ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি দিনটি উদ্‌যাপন করেছেন। এদিন ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত একটি শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি হোয়াইট হাউসের লনে একটি কেজ ফাইট বা খাঁচার ভেতর মল্লযুদ্ধের আয়োজন করেন।

জন্মদিন উদযাপন ও ইরান চুক্তি

এদিন ট্রাম্প আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউএফসি) প্রধান ডানা হোয়াইটকে সঙ্গে নিয়ে ওভাল অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ‘দ্য ক্ল’ নামে পরিচিত বিশাল অঙ্গনের দিকে রওনা হন। পথে ট্রাম্প ঐতিহাসিক ট্রুম্যান ব্যালকনিতে উঠে স্যালুট জানান। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি সামরিক জেট হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে গর্জন তুলে উড়ে যায়।

এরপর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে নিজের আসন গ্রহণ করেন। সেখানে অক্টাগন নামে পরিচিত জালঘেরা খাঁচার পাশে ১৪ জন যোদ্ধা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত হয়েই ছিলেন। এটি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত প্রথম পেশাদার ক্রীড়া আসর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্‌যাপনের আয়োজনে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে ইরান চুক্তি নিয়ে তাঁর একটি ঘোষণা। ‘কেজ ফাইট’ শুরুর আগে তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি ‘সম্পন্ন’ হওয়ার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

নিজের জন্মদিনে ‘কেজ ফাইট’ আয়োজন করা নিয়ে সমালোচকেরা ট্রাম্পকে উপহাস করেছেন। সমালোচকদের মতে, এটি হোয়াইট হাউসের এক রুচিহীন অবমাননা। এমন এক প্রেসিডেন্ট এ কাজ করেছেন, যিনি ক্ষমতায় থাকার সময় বারবার প্রচলিত নিয়ম ভেঙেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বেড়ে গেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ আয়োজনের পুরো খরচ ইউএফসি বহন করছে। নিজের গত জন্মদিনে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে নজিরবিহীন এক সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইউরোপের চার দেশ জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য বলেছে, তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ’ গ্রহণ করে, তবে তারা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা বলেছেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।’

ওই বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিকে নির্বিঘ্নভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।