স্পেনকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দিলে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার কঠোর হুমকি দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় এবং ন্যাটো মিত্রদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করায় স্পেনের ওপর তার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
সামরিক সহযোগিতা বন্ধের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প স্পেনের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সেগুলো দরকার নেই। আমরা চাইলে সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারি। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।" তিনি এই বিষয়টিকে বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করে কর্মকর্তাদের স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, "আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। স্পেনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।"
ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতবিরোধ
ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতি জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার দাবি জানিয়েছেন, যা বর্তমানে বেশিরভাগ দেশের ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই প্রস্তাবে স্পেনের আপত্তির কারণে দেশটির ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি এবং স্পেনের অবস্থানকে খুবই খারাপ বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ ন্যাটো জোটের ভেতরে দায়িত্ব বণ্টন ও যৌথ প্রতিরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যকে আবার সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতাও বজায় রাখতে চাইছে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-স্পেন সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যাতে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
