হিলারি ক্লিনটনের জবানবন্দি: এপস্টিনের সঙ্গে দেখা নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির কাছে রুদ্ধদ্বার জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়েছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।
জবানবন্দির মূল বক্তব্য
হিলারি ক্লিনটন একটি বিবৃতিতে বলেন, 'এপস্টিনের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। আমি কখনো তাঁর উড়োজাহাজে চড়িনি বা তাঁর দ্বীপ, বাড়ি অথবা অফিসে যাইনি।' কমিটির সামনে সাত ঘণ্টা উপস্থিত থাকার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, সারা দিন তাঁকে বারবার একই প্রশ্ন করা হয়েছে, তবে তিনি তদন্ত পরিচালনার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অস্বাভাবিক প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
জবানবন্দির শেষের দিকে হিলারি ক্লিনটন বলেন, 'এটি বেশ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। কারণ, আমাকে ইউএফও ও 'পিৎজাগেট'–সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রশ্ন করা শুরু হয়, যা অন্যতম জঘন্য ও বানোয়াট এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।' তিনি ২০১৬ সালে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা প্রচারের কথা উল্লেখ করেন, যাতে দাবি করা হয়েছিল, ওয়াশিংটন ডিসির একটি পিৎজা রেস্তোরাঁ শিশু যৌন চক্রের আস্তানা ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
হিলারি ক্লিনটন তাঁর লিখিত বক্তব্যে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তারা ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক থেকে মানুষের নজর সরানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক যৌন পাচার রোধে কাজ করা পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বিভাগকে 'দুর্বল' করে দিয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
হিলারি ক্লিনটনের জবানবন্দির পর কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার ট্রাম্পকে কমিটির সামনে হাজির করার ধারণাটি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এপস্টিন সম্পর্কে হাজার হাজার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং নথিপত্র প্রকাশে স্বচ্ছ ছিলেন।' কোমার আরও বলেন, ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি ও ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
বিল ক্লিনটনের জবানবন্দি ও অন্যান্য বিষয়
আজ শুক্রবার কমিটির কাছে বিল ক্লিনটনের জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে। হিলারি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট কমিটিকে জানাবেন, ২০০৮ সালে অপরাধ স্বীকার করার আগে এপস্টিনের সংস্পর্শে আসা 'বিপুলসংখ্যক' মানুষ এই যৌন পাচার সম্পর্কে 'জানতেন না'। শুনানির আগে কোমার দাবি করেন, এই তদন্ত রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট নয়, এবং কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য নিতে চাপ দিয়েছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ও বিচার বিভাগের অবস্থান
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্প ও বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিকেরও সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। গার্সিয়া অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত ৩০ লাখ নথিপত্রের মধ্য থেকে কিছু তথ্য লুকিয়ে রাখছে, যাতে ট্রাম্পকে সমালোচনা থেকে রক্ষা করা যায়। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো নথি অনুচিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছে এবং উপযুক্ত মনে হলে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।
এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ইতিহাস
জেফরি এপস্টিন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন। ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌনতায় প্ররোচিত করার দায়ে দণ্ডিত হওয়ার আগে ১৯৯০ ও ২০০০–এর দশকে ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের ব্যাপক মেলামেশা ছিল। বিল ক্লিনটন অফিস ছাড়ার পর ২০০০–এর দশকের শুরুতে কয়েকবার এপস্টিনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছিলেন, তবে তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলে দাবি করেছেন। কোমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্লিনটন যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন এপস্টিন ১৭ বার হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন।
