হিলারি ক্লিনটন: এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না, ট্রাম্পের জিজ্ঞাসাবাদ চান
হিলারি: এপস্টেইন সম্পর্কে জানতাম না, ট্রাম্পের জিজ্ঞাসাবাদ চান

হিলারি ক্লিনটনের দাবি: এপস্টেইন কাণ্ডে অজ্ঞতা, ট্রাম্পের জিজ্ঞাসাবাদ চান

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা বা জ্ঞান ছিল না। বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে, তিনি এ বিষয়ে পূর্ণ সত্য উদঘাটনের স্বার্থে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসনাল কমিটির সামনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। হিলারি অভিযোগ করেন যে, রিপাবলিকান সদস্যরা এপস্টেইন বা তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে অন্য সাক্ষীদের একই ধরনের কঠোর প্রশ্ন করেননি, যা তদন্তে বৈষম্যমূলক আচরণের ইঙ্গিত দেয়।

ক্লিনটন দম্পতির অবস্থান ও শুনানির ঘটনাপ্রবাহ

হিলারি ক্লিনটন বলেন, যদি পুরো সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হতো, তাহলে তাকে বাইরে এসে ব্যাখ্যা দিতে হতো না। তিনি হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারের প্রশংসা করেন, যিনি তদন্তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন শুক্রবার কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন বলে নির্ধারিত আছে। বিল ক্লিনটন আগেই দাবি করেছেন যে, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তারও কোনো ধারণা ছিল না এবং তিনি দুই দশক আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। প্রেসিডেন্সি ছাড়ার পর দাতব্য কাজের সূত্রে তাদের সীমিত যোগাযোগ হয়েছিল বলে তিনি জানান। শুরুতে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যাখ্যান করলেও, আদালত অবমাননার ঝুঁকি তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ক্লিনটন দম্পতি উভয়েই সাক্ষ্য দিতে রাজি হন।

সাক্ষ্য শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি লিখিত বক্তব্যে হিলারি ক্লিনটন আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন বলে মনে পড়ে না, তার বিমানেও ওঠেননি কিংবা তার দ্বীপ, বাসা বা অফিসে যাননি। তবে, তিনি স্বীকার করেন যে ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছিল এবং ২০১০ সালে তাদের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের বিয়েতেও ম্যাক্সওয়েল উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, শুনানির সময় বন্ধ দরজার বৈঠকের ভেতর থেকে ছবি ফাঁস হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন যে, কলোরাডোর কংগ্রেসওম্যান লরেন বোবার্ট নিয়ম ভেঙে ছবি তুলে তা এক রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারের কাছে পাঠিয়েছেন। বোবার্ট অবশ্য দাবি করেন যে, জবানবন্দি শুরুর আগেই ছবিটি তোলা হয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ দাবি

শুনানির বিরতিতে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদনাবিহীন ট্রান্সক্রিপ্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত কমিটির সামনে হাজির করার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাট সদস্য ইয়াসামিন আনসারি পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গুরুত্বহীন প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে, সত্য উদঘাটনের বদলে ছবি তোলাতেই রিপাবলিকানদের বেশি আগ্রহ ছিল। জার্মানির বার্লিনে বিবিসিকে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, তাদের লুকানোর কিছু নেই এবং এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের পক্ষে তারা বহুবার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এপস্টেইন কাণ্ডে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, যা এই রাজনৈতিক তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে।