হিলারি ক্লিনটন এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত, বিল ক্লিনটনের নাম নথিতে উল্লেখ
হিলারি কিলন্টন এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত

হিলারি ক্লিনটন এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত, বিল ক্লিনটনের নাম নথিতে উল্লেখ

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ নিয়ে চলমান তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মতি জানিয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি এপস্টিনের অপরাধ তদন্তকারী প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে হাজির হবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হিলারি সম্প্রতি তাঁর স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ ‘হাউস ওভারসাইট কমিটির’ কাছে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ

সাক্ষ্য দেওয়ার দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর আগে ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে এখন সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতি অবমাননা সম্পর্কিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। হিলারি ক্লিনটন জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার কোনো ঘটনা স্মরণ করতে পারছেন না।

বিল ক্লিনটনের সম্পর্ক ও অনুতাপ

বিল ক্লিনটন স্বীকার করেছেন যে তিনি এপস্টিনকে চিনতেন, তবে তিনি কোনো অপরাধ বা এপস্টিনের অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে দুই দশক আগেই এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করা এপস্টিনের সঙ্গে কোনো একসময়ে সম্পর্ক রাখায় তিনি অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা এই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হিলারির দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক কৌশল

গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে বিবিসির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়াকে রিপাবলিকান পার্টির একটি কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টিনের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলি থেকে জনসাধারণের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া। হিলারি বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা এ-সংক্রান্ত নথিগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। আমরা মনে করি, স্বচ্ছতাই অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।’

এপস্টিনের সহযোগীর সঙ্গে সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হিলারি ক্লিনটন জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কখনো এপস্টিনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে এপস্টিনের দোষী সাব্যস্ত সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ‘কয়েকবার’ দেখা হয়েছে। ২০১০ সালে নিউইয়র্কে তাঁদের কন্যা চেলসি ক্লিনটনের বিয়েতে ম্যাক্সওয়েল উপস্থিত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ পাওয়া গেছে।

নথি প্রকাশ ও তদন্তের অগ্রগতি

গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন মামলার ৩০ লাখের বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা এই কেলেঙ্কারির ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। প্রকাশিত নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম বারবার উল্লেখ থাকলেও কোনো অপরাধমূলক কাজে তাঁর বা হিলারি ক্লিনটনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এই তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।