ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন জনমতে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে এই চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
জরিপে চাঞ্চল্যকর ফলাফল
গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের ঠিক আগে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে ট্রাম্প ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খামখেয়ালি হয়ে গেছেন’। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
রয়টার্স-ইপসস পরিচালিত এই জরিপটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কিছু জরিপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন অনেক মার্কিন নাগরিক তাঁর মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে বর্তমান উদ্বেগের মাত্রা তখনকার চেয়ে অনেক বেশি, যা একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মানসিক সক্ষমতার হার কমছে
জরিপে আরও দেখা গেছে, যাঁরা মনে করেন ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম’, তাঁদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যান্য জরিপও একই প্রবণতা নির্দেশ করছে:
- সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কার্যকরভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো স্ট্যামিনা ও তীক্ষ্ণতা আছে বলে বিশ্বাস করা মানুষের হার ৫৩ শতাংশ থেকে কমে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
- ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন ট্রাম্পের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের মতো মানসিক তীক্ষ্ণতা (৫৬ শতাংশ) বা শারীরিক সুস্থতা (৫১ শতাংশ) নেই।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ
ট্রাম্পের নিজ সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগের হার বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুসারে, ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতার ওপর ‘খুব আত্মবিশ্বাসী’ মানুষের সংখ্যা এক বছর আগে থাকা ৩৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এটি ৩৫ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে নেমেছে।
রয়টার্স-ইপসস জরিপের মতোই, রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানঘেঁষা স্বতন্ত্র মানুষের মধ্যে এসব সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক। ট্রাম্পের নিজ সমর্থকদের মধ্যে মানসিক সুস্থতার ওপর ‘খুব আত্মবিশ্বাসী’ মানুষের হার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৬৬ শতাংশ হয়েছে এবং শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এটি ৬৫ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশে নেমেছে।
উদ্বেগের সম্ভাব্য কারণ
ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই সূচক খারাপ হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। মানুষ যখন সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হচ্ছেন, তখন হয়তো তাঁরা তাঁর অদ্ভুত আচরণগুলোকে আরও বেশি নেতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে যাঁরা ট্রাম্পকে পছন্দ করেন, তাঁরাও এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।
ট্রাম্পের কথার মধ্যে ভুল করা—যেমন বারবার আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডকে গুলিয়ে ফেলা—হয়তো মানুষের মনে দাগ কাটছে। এ ছাড়া তাঁর হাতে কালশিটে দাগ নিয়ে আলোচনা, জনসমক্ষে তাঁর ঘুমিয়ে পড়ার গুঞ্জন, তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তথ্য দিতে দেরি করা এবং তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিতির কর্মসূচি—এসবই মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাইডেনের সঙ্গে তুলনা
ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থা বাইডেনের মতো অতটা তীব্র নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, তখন মাত্র এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁকে মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ মনে করতেন। তবে ট্রাম্পের মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে সন্দেহের হার (৫৬ শতাংশ) বর্তমানে ঠিক সেই পর্যায়ে আছে, যেখানে বাইডেন তাঁর মেয়াদের এই সময়ে ছিলেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইডেনের হার ছিল ৫৪ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ঠিক একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, যেমনটি কয়েক বছর আগে তাঁর পূর্বসূরি বাইডেন হয়েছিলেন। জনমত জরিপগুলো এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
