হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযান নয়, বরং যাত্রীবাহী ছোট নৌকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের অভিযোগ।
মার্কিন দাবির বিপরীতে ইরানের বক্তব্য
ইরানের এই দাবি মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আইআরজিসির ছয়টি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন।
ইরানের তদন্ত ও বক্তব্য
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কমান্ডারের বরাতে জানিয়েছে, আইআরজিসির নৌযানে হামলার মার্কিন দাবির পর তেহরান একটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং সোমবার ওমানের উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলের দিকে যাত্রা করা দুইটি ছোট নৌকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। ওই হামলায় নৌকাগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং পাঁচজন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন বলে ওই কমান্ডার জানান। তিনি বলেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’ তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি
‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতিকে টালমাটাল করে দিয়েছে এবং আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর আগে, স্থানীয় সময় রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের নতুন একটি প্রকল্প শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করা; অর্থাৎ হরমুজ পেরোতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রহরা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।



