যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা প্রস্তাবের জবাবে ইরানের ১৪ দফা পাল্টা প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা প্রস্তাবের জবাবে ইরানের ১৪ দফা পাল্টা প্রস্তাব

উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফার শান্তি প্রস্তাবের জবাবে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৪ দফার একটি পালটা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। রোববার (৪ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের প্রস্তাবের মূল দিক

এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তেহরান কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং এক মাসের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ইরানের নতুন প্রস্তাবটি হলো সম্প্রতি দেওয়া আরেকটি প্রস্তাবের সংশোধিত রূপ। তবে এ প্রস্তাবে কী আছে, তা ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই জানায়নি।

যদিও ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে ইরান হামলা চালাবে না, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এই তিন নিশ্চয়তার ভিত্তিতে প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ হবে। পরবর্তী আলোচনা হবে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে। এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন প্রস্তাবের রূপরেখা অনুযায়ী, পরমাণু কর্মসূচির মতো বেশি জটিল বিষয় চূড়ান্ত ধাপে আলোচনার জন্য রাখা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, ওই আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের সংশয়

তবে তেহরানের এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে শুরুতেই বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনাটি পাঠিয়েছে, আমি শিগগিরই তা পর্যালোচনা করব। তবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের সঙ্গে তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য চোকায়নি’।

আইআরজিসির কড়া বার্তা

এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন দুটি পথ: হয় ভয়াবহ সামরিক অভিযানে জড়ানো, নয়তো ‘খারাপ চুক্তি’ করে বেরিয়ে যাওয়া। এর যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি ফারসি। সেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খুবই সীমিত হয়ে এসেছে। বিবৃতিতে সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে আইআরজিসি লিখেছে, তাকে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।