হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নাবিক থাইল্যান্ডে এক বানরের আক্রমণে আহত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে জাপানে স্থানান্তর করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউএসএস চিফ নামক মাইন অপসারণকারী জাহাজের ওই ইলেকট্রনিক্স টেকনিশিয়ান থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণে গিয়ে একটি এশীয় বানরের দ্বারা আক্রান্ত হন। যদিও কোন প্রজাতির বানর এ হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে থাইল্যান্ডে ম্যাকাক প্রজাতির বানর প্রচুর এবং তারা বেশ আক্রমণাত্মক হয়।
বানরের আক্রমণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সতর্ক করেছে যে, এই ম্যাকাক বানরগুলো হার্পিস বি ভাইরাস বহন করতে পারে, তাই আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইউএসএস চিফের মিশনে কোনও বিলম্ব হয়নি এবং ওই নাবিক এখন সুস্থ আছেন। তবে এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিল। এক সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘অদ্ভুত সব ঘটনাই ঘটে। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি অজানা বিষয় ছিল।’ আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত ভাবা হয় যে, তীরে নাবিকরা অন্য কোনও কার্যকলাপ থেকে রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, বানরের হাতে নয়।’
মাইন অপসারণ মিশন
মাইন শিকার ও অপসারণের জন্য ইউএসএস চিফ এবং ইউএসএস পায়োনিয়ার নামের জাহাজ দুটি মধ্য এপ্রিল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। ইরান হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশে যে মাইন পুঁতে রেখেছে এবং তাদের দ্রুতগতির অস্ত্রসজ্জিত নৌযানগুলো যে হামলা চালাচ্ছে, তাতে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ
এদিকে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই জাহাজগুলো ইতিমধ্যে প্রণালিতে কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে যারা মাইন স্থাপন করবে, সেই ছোট নৌকাসহ যেকোনও নৌযান দেখামাত্র গুলি করে ধ্বংস করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও ইতস্তত করা চলবে না।’



