জমানো টাকা বাবা-মাকে পাঠানোয় স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
জমানো টাকা বাবা-মাকে পাঠানোয় স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

ভারতে ৩৫ বছর বয়সি এক বিহারি নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে দেশটির পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিহতের স্বামী অনিল কুমার সাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনিল নিজেই চুক্তিভিত্তিক খুনি ভাড়া করে তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত ৩০ মে সাঙ্গারেডির আইডিএ বোলারাম এলাকায় মীনা দেবী নামের ওই নারীকে একদল দুষ্কৃতকারী গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পর তার স্বামী অনিল কুমার সাহ পুলিশকে জানান, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা মীনার গলা কেটে হত্যা করে, অনিলকে আহত করে এবং তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের সন্দেহ

তবে অনিলের এই বক্তব্যে শুরু থেকেই পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে নিবিড় তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, পুরো হত্যাকাণ্ডটি অনিল নিজেই পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অনিল পরবর্তীতে তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার কারণ

পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে অনিল শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী মীনা গত তিন বছর ধরে নিজের উপার্জিত সব টাকা বিহারে তার বাবার বাড়িতে পাঠাচ্ছিলেন। অনিলের দাবি, শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ার পর মীনা তাকে অবহেলা করতে শুরু করেন। এই ক্ষোভ ও আর্থিক বিরোধের জেরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ

হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর জন্য অনিল বিহারের একটি অপরাধী চক্রের মূলহোতা রিঙ্কু কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৯ মে রিঙ্কু তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে হায়দরাবাদে পৌঁছান। সেখানে অনিল তাদের সঙ্গে দেখা করে স্ত্রী মীনাকে খুনের চূড়ান্ত ছক আঁকেন। ৩০ মে তারা সুযোগ বুঝে মীনাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনাকে ডাকাতি সাজানোর চেষ্টা

হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করার পর ঘাতক চক্রটি অনিলের বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায় এবং শহরের উপকণ্ঠে সেটি ফেলে রেখে একটি বেসরকারি বাসে করে বিহারে পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনাটিকে ডাকাতি বা ছিনতাই প্রমাণ করার জন্য অনিল নিজের হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এরপর পুলিশের কাছে ডাকাত দলের হামলার মিথ্যা নাটক সাজান।

গ্রেফতার ও পলাতক

হায়দরাবাদ পুলিশ তদন্তের সূত্র ধরে রঞ্জন নামের এক অভিযুক্তকে বিহার থেকে ট্রানজিট ওয়ারেন্টের মাধ্যমে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে হায়দরাবাদে নিয়ে এসেছে। মূল পরিকল্পনাকারী অনিলও এখন পুলিশি হেফাজতে। তবে গ্যাংয়ের মূলহোতা রিঙ্কু এবং অন্য সহযোগী নীরজ এখনো পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক রিঙ্কুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাব, বিহার ও হরিয়ানায় গাঁজা-মদ চোরাচালান ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে নীরজের বিরুদ্ধে বিহারে অন্তত সাতটি চুরি ও শারীরিক হামলার মামলা রয়েছে।