মালয়েশিয়া প্রবাসী ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা সোহেল খলিফাকে বিয়ের দুবছর পর এই প্রথম স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছেন এক মালয়েশিয়ান তরুণী। এ উপলক্ষে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নাঠৈ প্রবাসী সোহেলের গ্রামের বাড়িতে বৌ-ভাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি ও গ্রামবাসী এ দম্পত্তিকে একনজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভিড় জমান।
প্রবাসী সোহেলের মালয়েশিয়া জীবন
প্রবাসী সোহেলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১১ সালে চাকরির জন্য মালয়েশিয়ায় পারি জমান সোহেল। পরবর্তীতে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ান এক তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা এতদিন মালয়েশিয়া ছিল। কুরবানির ঈদের দিন সোহেল তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফেরেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রেম থেকে বিয়ে
প্রবাসী সোহেল জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ার দামানছাড়া এলাকায় ব্যবসা করে আসছি। ২০২২ সালে মালয়েশিয়া ভানতিং এলাকার তরুণী নুর হিদায়া নুর হিশামের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০২৪ সালে আমাদের উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে মালয়েশিয়ায় আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আমি একবারও দেশে আসিনি। বিয়ের পর আমার স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে বেড়াতে আসবে, আমার গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশবে, কথা বলবে বলে জানায়। যেকারণে দুই সপ্তাহের জন্য স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছি। এতে আমাদের দুই পরিবার খুব খুশি হয়েছে।
তিনি জানান, আমার স্ত্রী বাংলাদেশে এসে আমার মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মিশতে পেরে আনন্দ উপভোগ করেছে। সে অল্প বাংলা বলতে পারে। বিশেষ করে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত পাঠ করতে পারে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে বাংলায় অল্প করে কথা বলতে শিখেছে। স্ত্রীকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটা বেড়িয়ে আবার দুজনই মালয়েশিয়া চলে যাব।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি
গৌরনদী থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, লোকমুখে জানতে পেরেছি মালেশিয়া থেকে এক তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে নাঠৈ গ্রামে এসেছেন। সেখানে বিদেশি তরুণীকে দেখতে লোকজন ভিড় জমাচ্ছে। তাদের যেন কোনো প্রকার অসুবিধা না হয় সেদিকে আমি নজর রাখছি।



