মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর চারটি ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে, যা জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি কাঁপিয়ে দেয়। ভয়ে অনেকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, "হঠাৎ ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। আগুনের ঝলক যেন আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছিল।" টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার আরেক বাসিন্দা মো. ইসলাম জানান, প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলেন তিনি। প্রথমে ভূমিকম্প মনে হলেও পরে বোঝা যায়, সীমান্তের ওপার থেকেই শব্দ আসছে।
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, "বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রভাবে সীমান্তের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে এবং শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।" টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন, রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এই গোলাগুলি হচ্ছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে নিজেই সীমান্তে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের সতর্কতা
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত কেঁপে উঠেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা রাখাইনে আবার সামরিক হামলা শুরু করেছে জান্তা সরকার। একই দিন সকালে জান্তা রাখাইনের বুথে এলাকায় বিমান হামলাও চালিয়েছে।



