কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে গ্রামবাসী
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের বাঁধে ধস, আতঙ্কে গ্রামবাসী

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যার পর উপজেলার কাঁচকোল এলাকায় নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশে তীর সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্লকসহ মাটি ধসে যেতে শুরু করে। এতে তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না হলে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যেতে পারে।

আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে রাতেই যদি এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে বাঁধটির পুরো অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।’ বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘খুব ভয় লাগতেছে। চোখের সামনে বাঁধের ভাঙন দেখি ঘুম হারে গেইছে। রাইতে যদি গোট বাঁধ ভাঙে তাহলে সবাই পানিত ভাসি যাওয়া লাগবে। এই অবস্থায় রাইতে হামরা ঘুমবার পাবার নই।’

পাউবোর বক্তব্য

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধটির ওই স্থান বেশ দুর্বল কাঠামোর উপর নির্মিত। পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘তীর রক্ষা বাঁধে ধসের খবরে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেখানে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে নৌকা করে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে স্থানটির ধস বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্বল কাঠামো ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা

নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান আরও বলেন, ‘বাঁধের ওই স্থানটির নকশা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। যে পরিমাণ ঘনত্বে ব্লক ও বস্তা ডাম্পিংয়ের প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। ফলে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। তখন আমরা জরুরি মেরামত করি। বাঁধের ওই স্থানটি নতুন করে স্থায়ী মেরামত করার জন্য প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নতুন করে কাজ করা হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ধস রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলা শহরসহ হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। শত শত হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।