মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেই ইউএনওর কাছে কারাগারে পাঠানোর আবেদন, পেলেন ৫ মাসের সাজা
মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেই কারাগারে যেতে চাইলেন, পেলেন ৫ মাস সাজা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এক অভিনব ঘটনায় মাদকাসক্ত এক ব্যক্তি নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছেন। টানা তিন দিন ইউএনও কার্যালয়ে ঘোরাঘুরির পর শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থ অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (১ জুলাই) বিকালে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

কে এই জহুরুল ইসলাম?

দণ্ডপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম (৫০) গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। এর আগে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে ছয় মাস কারাভোগ করলেও নেশা ছাড়তে পারেননি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১৬ নম্বর ক্রমিকের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থ অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কীভাবে ঘটলো এই ঘটনা?

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, জহুরুল ইসলাম নিজ থেকেই ইউএনও কার্যালয়ে এসে জানান, তিনি আর মাদক সেবন করতে চান না। কিন্তু কোনোভাবেই নেশা ছাড়তে পারছেন না। তাই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ করেন। তিনি সত্যিই সংশোধন হতে চান কিনা, তা যাচাই করতে প্রথম দিন তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। পরদিনও তিনি একই আবেদন নিয়ে উপস্থিত হন। সেদিনও তাকে ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার তৃতীয় দিনের মতো তিনি আবার ইউএনও কার্যালয়ে এসে একই আবেদন জানান। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার আবেদন গ্রহণ করে দণ্ড দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউএনওর বক্তব্য

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, 'শুধু জহুরুল ইসলাম নন, বুধবার তার সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যও এসেছিলেন। তারা দুজনই অনুরোধ করেন, জহুরুল ইসলাম যেন কারাগারে গিয়ে নেশা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।'

এই ঘটনা মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।