দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে লড়াই বন্ধে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হলেও এটিকে চূড়ান্ত কোনো সমাধান নয়, বরং একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে উভয় পক্ষই।
চুক্তি স্বাক্ষরের বিবরণ
শুক্রবার (২৬ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার মার্কিন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পক্ষগুলোর অবস্থান
চুক্তি প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখার আইনি সুযোগ দেবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন একে সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “লেবাননের নাগরিকরা এবার নিজ ভূমিতে ফিরবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহর মতো অন্য কোনো অংশীদার থাকবে না।”
মার্কিন ভূমিকা ও মানবিক সহায়তা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে একটি ‘কঠিন যাত্রার সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাস্তবায়নে সরাসরি কাজ করবে এবং জাতিসংঘের সাথে সমন্বয় করে লেবাননের জন্য তাৎক্ষণিক ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা দেবে।
সংঘাতের পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানে লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চুক্তি সইয়ের পর ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার দাবি করেন, “ইরান ও হিজবুল্লাহ বিদায় নিয়েছে। এখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তির পথ তৈরি হয়েছে।”
চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি থামেনি সংঘাত। শুক্রবারই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে অভিযানে হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের মনসুরি শহরে লিফলেট বিতরণ করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এলাকা ছাড়ার এমন নির্দেশ এটাই প্রথম, যা এই চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।



