সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইরান অন্তত ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের তহবিল পেতে যাচ্ছে। তবে এত বড় অঙ্কের এই বিশাল অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত কে বা কারা এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় অর্থায়ন করবে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
মার্কিন অবস্থান: করদাতাদের টাকা নয়
মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের পুনর্গঠনের খরচ আমেরিকার করদাতারা বহন করবেন না। এর পরিবর্তে, তহবিলের এই আর্থিক রূপরেখা কেমন হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখিত ৬০ দিনের বাস্তবায়ন মেয়াদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ইরানকে ৩০ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে, এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই ধরনের দাবিকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবেও বর্ণনা করেন। সংঘাতের পর এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তুত করছে, এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছিল।
সমঝোতা স্মারকে কী বলা হয়েছে?
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখানে কোনও আর্থিক ভূমিকা পালনের চেয়ে মূলত একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুনর্গঠন কর্মসূচিটি এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা এবং এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও একটি বড় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবং বিনিয়োগ তহবিলগুলোকে ইরানের জ্বালানি, পরিবহন, আবাসন ও শিল্প উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বক্তব্য
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর সঙ্গে আলাপকালে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেন, “তেহরান আশা করছে এই ৩০ হাজার কোটি ডলারের উৎস হবে বাইরের কোনও পক্ষ বা দেশ।” অন্যদিকে, সেই বিনিয়োগগুলো আকৃষ্ট ও সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই পুরো অর্থায়ন প্যাকেজের সুনির্দিষ্ট কাঠামো কেমন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী সপ্তাহগুলোতে আলোচকরা মূলত এটি নির্ধারণ করতেই সময় ব্যয় করবেন যে, বাস্তবসম্মতভাবে ঠিক কতটা পুঁজি সংগ্রহ করা সম্ভব, কোন কোন দেশ বা সংস্থা এতে অবদান রাখতে পারে এবং এই অর্থ প্রবাহের ক্ষেত্রে কী ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ



