ইরান আনুষ্ঠমিকভাবে অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বেআইনি ও আগ্রাসী হামলায় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সরাসরি সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা ছিল। ইউরোপীয় মিত্ররা তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে বলে ন্যাটোর শীর্ষ প্রধানের এক স্বীকারোক্তির পর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
ন্যাটো প্রধানের স্বীকারোক্তি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে একটি বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কড়া ভাষায় দাবি করেন যে মার্কিন জোট প্রধানের এই মন্তব্য মূলত ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক জোটের সক্রিয় অপরাধমূলক অংশীদারিত্বের 'একটি স্পষ্ট এবং অকাট্য স্বীকারোক্তি'।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে এই বেআইনি আগ্রাসনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়া প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে এর সমস্ত ভয়াবহ পরিণতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
ইতালি ও রোমানিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইরানি মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই তার বিবৃতিতে বিশেষভাবে ইউরোপের দুটি দেশ ইতালি এবং রোমানিয়ার নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে এই দুই দেশের প্রশাসনকে অবশ্যই বিশ্ববাসীর সামনে এখন জবাবদিহি করতে হবে যে তারা কেন ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই অবৈধ আগ্রাসনে সরাসরি শামিল বা 'কোলাড' হওয়ার নীতি বেছে নিয়েছিল। তেহরানের পক্ষ থেকে এই দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট স্বীকার করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচালিত 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামের সামরিক অভিযানকে সফল করতে ইতালি সরকার বড় ধরনের সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
মার্কিন বিমান চলাচলে সহায়তা
তিনি জানান যে রোম প্রশাসন তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো থেকে আমেরিকার প্রায় ৫০০টি যুদ্ধবিমানকে ইরানের উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়ার এবং তেহরানে হামলা চালানোর সরাসরি অনুমতি দিয়েছিল। ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট তার ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে রোমানিয়ার ভূমিকার কথাও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন।
তিনি জানান যে যুদ্ধের সময় রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টকে তাদের সাধারণ বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। কারণ মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহের বিশেষ ট্যাংক বা 'ট্যাঙ্কার ফ্যাসিলিটিজ' নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটির সব বিমানবন্দরকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা



