ইসরায়েলের নতুন কৌশল: দক্ষিণ লেবাননে হলুদ সীমারেখা নির্ধারণ, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হলুদ সীমারেখা, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন পদক্ষেপ: দক্ষিণ লেবাননে হলুদ সীমারেখা নির্ধারণ

গাজায় ব্যবহৃত মডেল অনুসরণ করে এবার দক্ষিণ লেবানন সীমান্তেও একটি হলুদ সীমারেখা নির্ধারণ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলকে পৃথক করতে যে ধরনের সীমানা ব্যবহার করা হয়, লেবাননের ক্ষেত্রেও একই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর লেবাননে প্রথমবারের মতো এমন সীমারেখা নির্ধারণের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা ও ইসরায়েলের দাবি

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, এই হলুদ সীমারেখা অতিক্রম করে তাদের সেনাদের দিকে এগিয়ে আসা সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর ইতিমধ্যে হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে হলুদ সীমারেখার দক্ষিণে অবস্থানরত বাহিনী উত্তর দিক থেকে আসা কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল।

ইসরায়েল জানিয়েছে, শনাক্ত করার পরপরই হুমকি দূর করতে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ওই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও যেকোনও ধরণের হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এই হামলাগুলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হলুদ সীমারেখা কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হলুদ রেখার মাধ্যমে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এটি মূলত একটি দে-ফ্যাক্টো সীমানা যা গাজাকে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা এবং হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা, এই দুই এলাকায় ভাগ করেছে। এখন একই মডেল লেবানন সীমান্তেও প্রয়োগ করছে ইসরায়েল, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই হলুদ সীমারেখা নির্ধারণের মাধ্যমে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিরাপত্তা জোন তৈরি করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এটি হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীর চলাচল সীমিত করতে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, এই পদক্ষেপ লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগও তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে।

সামগ্রিকভাবে, ইসরায়েলের এই নতুন কৌশল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হলেও, এটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সীমারেখা কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা এখনই পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।