ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভে অস্ত্র হাতে নারীরা, রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র
ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইরানের নিবেদিতপ্রাণ কন্যারা’ শীর্ষক এই র্যালিতে হাজার হাজার নারী ও তরুণী অংশ নিয়ে রাজপথে স্লোগান দেন, তাদের হাতে দেখা যায় বন্দুক ও জাতীয় পতাকা। এই ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
খামেনির মৃত্যুর পর নিয়মিত বিক্ষোভ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে সরকারপন্থীদের এই ধরনের বিক্ষোভ প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএনএনের খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিক্ষোভকারী নারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোহরা ইলখান নামের এক নারী বলেন, "আমরা যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত। আমরা তাদের হুমকি বা হামলাকে ভয় পাই না। তারা যদি আমাদের শর্ত মেনে মাথা নত করে আলোচনায় আসে, তবেই আমরা বসব। প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা আমাদের নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলব।"
আলোচনার পথে উত্তাপ
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে আলোচনার কথা ভাবছে। তবে রাজপথের এই উত্তাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হলেও সরকারপন্থীদের এই সমাবেশগুলো রাষ্ট্রের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’-এর তথ্যমতে, গত জানুয়ারি মাসেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত ও আটক হয়েছেন। খামেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি
একদিকে সরকারের প্রতি অনুগতদের রাজপথ দখল, অন্যদিকে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে পারস্য উপসাগরের এই দেশটি। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বৈদেশিক চাপ একসাথে কাজ করছে।
এই বিক্ষোভ শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয়, বরং ইরানের নারীদের সক্রিয় ভূমিকা ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। দেশটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তা চলমান থাকলেও, রাজপথের এই দৃশ্য ইরানের জনগণের মনোভাব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরছে।



