যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে আগামী কয়েক দিনে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে শিগগির

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে আগামী কয়েক দিনে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে চূড়ান্ত একটি সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্পের আশাবাদ ও বৈঠকের সম্ভাবনা

ট্রাম্প বলেন, "ইরানিরা বৈঠকে বসতে চায়, তারা একটি চুক্তি চায়। আমি মনে করি চলতি সপ্তাহান্তেই (শনি বা রবিবার) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্ভবত আগামী এক বা দুদিনের মধ্যেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছে যাব।" সম্প্রতি অন্তত একজন ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত ও জটিলতা

ট্রাম্প চরম আশাবাদী হলেও আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও কিছুটা জটিল। যদিও দুই পক্ষ তিন পৃষ্ঠার একটি শান্তি পরিকল্পনার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়ে গেছে। অ্যাক্সিওস শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি অন্যতম শর্ত হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে।
  • এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা তহবিল ছেড়ে দেবে।
  • ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নৌ-অবরোধ ও হরমুজ প্রণালি

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগে তিনি ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেবেন না। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক। এদিকে ইরান শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য তারা এই প্রণালি খুলে দেবে। তবে এটি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট।

ইসরায়েলের ভূমিকা ও ট্রাম্পের অবস্থান

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে ইসরায়েল নিরাপদ হবে এবং যুদ্ধের শেষে দেশটি একটি ভালো অবস্থানে থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলকে থামতে হবে। তারা একের পর এক ভবন উড়িয়ে দেওয়া চালিয়ে যেতে পারে না। আমি এটি হতে দেব না।" ট্রাম্পের এমন কঠোর বার্তার ঠিক আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি সরকারের একটি অংশ ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তির বিরোধী এবং তারা ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা সম্ভবত সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি শিগগিরই একটি ঐতিহাসিক মোড় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।