ইরানের দৃঢ় অবস্থান: সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চিরস্থায়ী শান্তি চায় তেহরান
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান বর্তমানে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সংঘাতের জন্য কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী নয়। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের একটি পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এই মর্মে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
অলঙ্ঘনীয় শর্ত: সমগ্র সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্তি
খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কাছে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত হলো লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্তি। তিনি এটিকে একটি 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন: "তেহরান কোনো খণ্ডিত বা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নয়। এই অঞ্চলের সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির দাবি জানাচ্ছি।"
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবস্থান প্রসঙ্গে খাতিবজাদেহ জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তবুও দীর্ঘকাল ধরে তেহরান এটিকে উন্মুক্ত রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে ইরানের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন:
- এই দুই দেশের কর্মকাণ্ড অঞ্চলটিতে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে
- তাদের নেতিবাচক তৎপরতা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে
- সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতিও এই সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
খাতিবজাদেহর এই বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি দৃঢ় প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তেহরানের শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইরানের এই অবস্থান বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেহরানের এই দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যত শান্তি আলোচনাগুলোর গতিপথ নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।



