লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে
লেবাননে সদ্য কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গোলাবর্ষণ ও নজরদারি অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা
সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন শহরে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলাবর্ষণের পাশাপাশি ওই এলাকায় মেশিনগানের গুলিবর্ষণসহ ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া, পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরাইলি নজরদারি বিমান ব্যাপকভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল এবং জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমে এসব বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও ইসরাইলে অসন্তোষ
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলার পর এই ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ইসরাইলে। জাফাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদে বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, অনেক ইসরাইলি মনে করছেন, ট্রাম্পের চাপেই এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে তেলআবিব সরকার, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
লেবাননে হতাহতের পরিসংখ্যান
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চলমান ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার ১৯৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৮৫ জন আহত হয়েছেন। এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছে লেবাননের নাগরিক সমাজ, যাতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা যায় এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।



