ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণায় ইসরায়েলে ক্ষোভের ঝড়
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের সাথে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। এই ঘটনায় তেল আবিবে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে, যা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো সরকারের জন্য অত্যন্ত 'বিব্রতকর পরিস্থিতি' হিসেবে বর্ণনা করছে। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের হতবাক করে দিয়েছে।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আগাম ঘোষণা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের এই একতরফা ঘোষণাকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে অবমাননা করার শামিল বলে মনে করছেন দেশটির অনেক রাজনীতিবিদ।
সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আজ রাত থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য কারিগরিভাবে প্রস্তুত থাকলেও, তারা নিজেরা ঘোষণা করার আগেই ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই বার্তা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মাঠ পর্যায়ের সেনাদের কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত, বিশেষ করে যখন দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছিল এবং নিয়মিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও স্থল হামলা চালাচ্ছিল।
কট্টরপন্থীদের আশঙ্কা ও অভিযানের ধারাবাহিকতা
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকার এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এখনই যুদ্ধ থামানোর পক্ষে ছিল না। তাদের দাবি ছিল, লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনী যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছে কট্টরপন্থী অংশগুলো।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ এই ঘোষণা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।



