লেবাননে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু: ইরানের চাপে সিদ্ধান্ত, ইসরাইলে অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক লেবাননে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধবিরতি নিয়ে। ইরানঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদীন এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) রাত থেকেই লেবাননে এক সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। ওই কর্মকর্তার দাবি, মূলত ইরানের চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শেষ সপ্তাহের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরাইলে অনিশ্চয়তা ও মতভেদ
তবে এই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে ইসরাইলি মহলে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ও মতভেদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইল সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও একজন ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, লেবাননে এক সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি মূলত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উত্থাপন করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে তুলে ধরে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ রাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক বিভাজন রয়েছে। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তারা বরং বৈরুত এবং লিতানি নদীর ওপারে আক্রমণ আরও জোরদার করার পক্ষে জোরালো দাবি তুলছেন, যা সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ফলে আজ রাতের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে যে, লেবানন আসলেই শান্ত হচ্ছে নাকি সংঘাত আরও নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



