যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেবে না: ব্রিটিশ মন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান
যুক্তরাজ্য সরকার ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস বুধবার (১৫ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।
চ্যান্সেলরের হতাশা ও ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র সফরের পথে ডেইলি মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিভস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুস্পষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ায় তিনি খুবই হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মন্ত্রী জেমস মারের বক্তব্য
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রী জেমস মারে বলেন, চ্যান্সেলর এমন একটি মতামত তুলে ধরেছেন, যা ব্রিটেনের অনেক মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন। এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এতে জড়াইনি, কিন্তু এর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়বে। তার এই মন্তব্য দেশটির জনগণের মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে বৈঠকের প্রস্তুতি
এদিকে ওয়াশিংটনে রিভস মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে ইরান সংঘাতের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফের সতর্কতা
এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। এই সতর্কতা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্কট বেসেন্টের প্রতিক্রিয়া
তবে স্কট বেসেন্ট বিবিসিকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য স্বল্পমেয়াদি কিছু অর্থনৈতিক কষ্ট মেনে নেওয়া যেতে পারে। তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, যা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার হচ্ছে, তবে যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।



