যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি, ইসলামাবাদে আবারও বৈঠকের সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় আলোচনা, ইসলামাবাদে বৈঠকের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি, ইসলামাবাদে আবারও বৈঠকের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশ আরও এক দফা মুখোমুখি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যেন একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হওয়া যায় এবং আবার হামলা শুরু আটকানো যায়।

আলোচনার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

সম্প্রতি ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে, যাতে সম্ভাব্য বৈঠকটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে। গত ৭ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় ৮ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল আলোচনায় বসেছিলেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হলেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা ও ইসলামাবাদের ভূমিকা

যদি দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়, তবে তার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

আঞ্চলিক প্রভাব ও ভঙ্গুর পরিস্থিতি

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আরও বড় আকারে আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কার মধ্যেই এ যোগাযোগ অব্যাহত আছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে ও তেলের বৈশ্বিক বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

উভয় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সফল হলে তা যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইসলামাবাদে আয়োজিত এই আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।