যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ফের বৈঠকে বসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন তেহরান তার শর্ত মানতে প্রস্তুত, তবে তিনি শিগগিরই সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
মার্কিন সূত্রে নতুন দফার আলোচনার খবর
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন করে মুখোমুখি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। মার্কিন এই সংবাদ সংস্থাটিকে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন দফার আলোচনার বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
একই সংখ্যক প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে ওই কূটনীতিক ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন দফার আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা নিয়ে আলোচনা চলছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার স্থান ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ট্রাম্প ও ভ্যান্সের বক্তব্য
এর আগে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওপক্ষ থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরান কিছুটা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের দিকে এগিয়েছে। তবে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব তেহরানের ওপরই রয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি শুধু বলব না যে সবকিছু ভুল হয়েছে। আমি এটাও মনে করি অনেক কিছু ঠিকভাবেই হয়েছে। আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের অবস্থানের দিকে এগিয়েছে, তাই আমরা বলতে পারি কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত ছিল। তবে তারা যথেষ্ট দূর এগোয়নি।’
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব
ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তার সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনা ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার স্থান ও সময় চূড়ান্ত না হলেও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা প্রবল। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক সংকেত দেবে।



