ইসরাইলে জনমত জরিপ: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে অধিকাংশ, নেতানিয়াহুর সমর্থনে ভাটা
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির জনমতের একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কার্যকর যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে অবস্থান করছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা নির্দেশ করে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভক্ত জনমত
জরিপে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইসরাইলি নাগরিক এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করছেন না, যা তাদের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে দৃঢ় মনোভাব প্রতিফলিত করে। তবে দুই সপ্তাহের এই সাময়িক বিরতি পালন করা উচিত নাকি পুনরায় হামলা শুরু করা প্রয়োজন, এই প্রশ্নে জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩৯ শতাংশ ইসরাইলি পুনরায় আক্রমণের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৪১ শতাংশ নাগরিক মনে করেন আপাতত যুদ্ধবিরতি মেনে চলা উচিত, যা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের অবস্থা তৈরি করেছে।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সাথে চলমান সংঘাতের বিষয়েও ইসরাইলিদের কঠোর মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে জরিপে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানালেও ৬১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।
তারা স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের সাথে হওয়া কোনো সমঝোতা বা বিরতি হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়, যা ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলে একটি পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
নেতানিয়াহুর জনসমর্থনে ভাটা
এই যুদ্ধের প্রভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনসমর্থনেও উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়েছে। জরিপের তথ্যমতে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর সময় ৪০ শতাংশ নাগরিক তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করতেন, যা বর্তমানে কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এই পতন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিক চিত্র
সব মিলিয়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের জনমত যেমন কঠোর সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান করছে, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জরিপটি ইসরাইলি সমাজের বর্তমান মনোভাব ও আশঙ্কাগুলোকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
জরিপটি ইসরাইলি নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন কীভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত হয়, তা বিশদভাবে তুলে ধরেছে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যত কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।



