ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবহর ৬০ শতাংশ অক্ষত, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরও ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-বহরের ৬০ শতাংশেরও বেশি এখনও অক্ষত রয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সামরিক সক্ষমতার খবর সামনে এসেছে ঠিক তখনই, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর।
ছোট নৌযান ও গোপন স্থানের কৌশল
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি মূলত ছোট ছোট দ্রুতগতিসম্পন্ন স্পিডবোট এবং আক্রমণকারী নৌযানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নিয়ন্ত্রণ করে। এসব নৌযান ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইনে সজ্জিত, এবং ছোট আকারের হওয়ায় এগুলো রাডার বা স্যাটেলাইট শনাক্তকরণ এড়িয়ে চলতে পারে। এটি প্রথাগত বড় যুদ্ধজাহাজের তুলনায় লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন করে তোলে। এ ছাড়া, আইআরজিসি এসব নৌযান মাটির নিচে বিশেষ গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে, ফলে এগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
প্রথাগত নৌবাহিনীর ক্ষতি, কিন্তু আইআরজিসির সক্ষমতা অটুট
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও আইআরজিসির সামগ্রিক সক্ষমতায় তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে হামলায় আইআরজিসির কিছু বড় নৌযান ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ-বিধ্বংসী ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রবাহী আইআরআইএস শহীদ সায়াদ সিরাজি এবং পারস্য উপসাগরে আইআরজিসির সবচেয়ে বড় ড্রোনবাহী জাহাজ শহীদ বাঘেরি।
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা
খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসির ছোট ও আক্রমণকারী নৌযান এখনও বেশির ভাগ অক্ষত থাকায় তারা সহজেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। বিশেষ করে এই সরু জলপথে মাইন পুঁতে রাখার মাধ্যমে তারা যেকোনও সময় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে সক্ষম। ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই ক্ষেত্রে তা ‘খুব সামান্যই পার্থক্য’ তৈরি করবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি ইরানের সামরিক কৌশলের স্থিতিস্থাপকতা এবং হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তাদের প্রভাব বজায় রাখার সক্ষমতা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক থাকছেন, বিশেষ করে মার্কিন নৌ-অবরোধের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে।



