ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা: ইসলামাবাদে সমঝোতা সম্ভব ছিল না, বললেন ইসহাক দার
যুদ্ধ-পরবর্তী জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিক সমঝোতার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, চরম অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় শুরু থেকেই মাত্র একটি বৈঠকের মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা না করাটাই ছিল স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
ইসহাক দার আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, "চরম অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শুরু থেকেই মাত্র একটি বৈঠকের মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা না করাটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ধাপে ধাপে আস্থা তৈরি করা অপরিহার্য এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে ইরানের মুখপাত্র বাগাই বলেছিলেন, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবির কারণে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ইরানি প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালালেও মার্কিন পক্ষের অবস্থানের কারণে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ইসহাক দার পুনর্ব্যক্ত করেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান তার মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং ভবিষ্যতেও সংলাপের পথ খোলা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জটিল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই আলোচনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা এবং আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ আলোচনার পথ সুগম হতে পারে। ইসহাক দারের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তাৎক্ষণিক সমাধানের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



