ট্রাম্পের নীরবতা উদ্বেগজনক, ইসলামাবাদ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্পের নীরবতায় উদ্বেগ, ইসলামাবাদ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের নীরবতা উদ্বেগজনক, ইসলামাবাদ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর। গতকাল শনিবার শুরু হওয়া ২১ ঘণ্টার এই কূটনৈতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইতিহাসে আলোচনার ধারা ও বর্তমান জটিলতা

অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নানা বিষয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চলে আসছে। ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেও কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও জটিল, কারণ যুদ্ধের ফলে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামাবাদে শুরু হওয়া কূটনৈতিক আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আগামী কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটতে চলেছে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, আর এই নীরবতা খুবই উদ্বেগের। তাঁর এই নীরবতা প্রচণ্ড চিৎকারের মতো কানে লাগছে, কারণ আমরা জানি মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি টুইট করে বলেছিলেন—"একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কখনো ফিরে আসবে না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের বক্তব্য থেকে জানা যায়, একটি চুক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান এখনো সেটি বিবেচনায় নিয়ে ফিরে আসতে পারে। তবে কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টার আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা।

যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে এবং এর মেয়াদ আরও প্রায় ১০ দিন বাকি। একমাত্র ইসরায়েল ছাড়া পাকিস্তানসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাইবে এই যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকুক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, সেই সঙ্গে একটি শান্তি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তও হয়।

কিন্তু ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ওই আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—আবার কি যুদ্ধের দিকে ফিরে যাবে অঞ্চলটি? ট্রাম্পের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব, কারণ তিনিই আসলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।