ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ৪০ দিনের যুদ্ধের পর আশা জাগানো এই বৈঠক ২১ ঘণ্টা ধরে চালানো হলেও কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। আলোচনা শেষে উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছে।

আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি ও হতাশার পরিবেশ

গত শনিবার শুরু হওয়া আলোচনা শুরুর দিকে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হলেও রাত গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিবিসির পাকিস্তান সংবাদদাতা ক্যারি ডেভিসের বর্ণনায়, হোটেলে মার্কিন প্রতিনিধিদলের গাড়িবহর দ্রুত প্রস্থানের দৃশ্য এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আলোচনার হতাশাজনক ফলাফলেরই ইঙ্গিত বহন করছিল।

ডেভিস উল্লেখ করেন, 'অনেকে আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় শান্তিচুক্তি হওয়া কঠিন। তবে দুই পক্ষ থেকেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসায় অনেকের আশা ছিল, সবাই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সত্যিই আন্তরিক।' এই ব্যর্থতা শুধু সম্মেলনকক্ষেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের পটভূমি ও আলোচনার তাৎপর্য

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বের তেল বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, কারণ বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করা হয়, যা গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ব্যর্থতার কারণ ও পরস্পর দোষারোপ

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের 'অযৌক্তিক' দাবির কারণেই ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, 'এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর, যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের ছিল না।'

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা কমে গেছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিবিসির বিশ্ব সংবাদদাতা জো ইনউডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই, তবে এর সম্ভাবনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ওয়াশিংটন হয়তো বিকল্প পথ খুঁজছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চলমান রাখতে তাঁর দেশ ভূমিকা পালন করবে। ইরানও সরাসরি ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি, বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো চুক্তি না হওয়ায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। ইসলামাবাদের এই ঐতিহাসিক বৈঠক কূটনীতির একটি ব্যর্থ উদাহরণ হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।