ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে বৈঠক
ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো শুক্রবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
প্রতিনিধিদলের বিশদ বিবরণ
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের আগমন
এদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার আলোচনায় অংশ নেবেন। এই বৈঠকটি শনিবার সকালে ইসলামাবাদে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা বর্তমান আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।
এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে একটি সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে।



