হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ে মার্কিন ক্ষোভ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ে মার্কিন ক্ষোভ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো থেকে ইরানের ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের খবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই টোল আদায় অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে নতুন সংকট

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া প্রতিটি ট্যাঙ্কারে থাকা তেলের প্রতি ব্যারেলের জন্য ১ ডলার করে মাশুল দাবি করছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করতে হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘খবর আসছে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কারগুলো থেকে ফি আদায় করছে। তারা যেন এমনটা না করে, আর যদি করেও থাকে তবে এখনই তা বন্ধ করা উচিত!’

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে হরমুজ প্রণালি ‘উন্মুক্ত’ রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ইরানের ভয়ে কোনও জাহাজ সেখানে দিয়ে চলাচল করছে না। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের বৃহস্পতিবার সকালে লিনকডইনে এক পোস্টে সরাসরি বলেন, ‘আসুন স্পষ্ট হই, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত নয়। ইরান তার কথা ও কাজের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এখান দিয়ে যাতায়াত এখন অনুমতি ও রাজনৈতিক শর্তসাপেক্ষ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী শত শত ট্যাঙ্কার এখনও হরমুজ পার হওয়ার অপেক্ষায় স্থবির হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, এই সংকটের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০ হাজার নাবিক কার্যত আটকা পড়েছেন। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা আন্তর্জাতিক অবাধ নৌ-চলাচলের নিয়মের পরিপন্থি। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান যদি কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে, তবে বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া তেলের ২৫ শতাংশই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য

ইসরায়েলি হামলায় নিহত বাবা আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনের শোক পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক লিখিত বার্তা দেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বার্তা। এতে তিনি ইরানকে এই যুদ্ধের ‘সুনিশ্চিত বিজয়ী’ হিসেবে দাবি করেন।

খামেনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায়নি এবং এখনও চায় না। তবে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে পিছিয়ে আসব না। আমরা আগ্রাসীদের ছেড়ে দেব না; সব ক্ষয়ক্ষতি এবং শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনাকে একটি ‘নতুন পর্যায়ে’ নিয়ে যাবে।

শান্তি আলোচনায় প্রভাব

আগামী শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এই নতুন উত্তেজনা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।