হরমুজ প্রণালিতে মাশুল আরোপ করলে ইরানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিতে মাশুল আরোপে ট্রাম্পের ইরানকে সতর্ক

হরমুজ প্রণালিতে মাশুল আরোপ করলে ইরানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর মাশুল আরোপের বিষয়ে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবারও খুলে দিতে সম্মত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি এ সতর্কতা জারি করেন।

ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হুমকি

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে মাশুল নিচ্ছে বলে খবর শোনা যাচ্ছে। তারা যদি এটা না করে থাকে তাহলো তো ভালো। আর যদি করেও থাকে, তাহলে এখনই তা বন্ধ করতে হবে!’

কয়েক মিনিট পর আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আপনারা দেখবেন, খুব দ্রুতই তেল সরবরাহ শুরু হবে—এতে ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপর একটি পোস্টে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান খুবই খারাপ আচরণ করছে। কেউ কেউ একে অসম্মানজনক বলছেন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটা আমাদের চুক্তি নয়!’

যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালির অবস্থা

এদিকে বৃহস্পতিবার সমুদ্রপথে নৌযান চলাচল শনাক্তের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য–উপাত্ত বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ খুলে দিতে ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সময়সীমা শেষে যুদ্ধবিরতি

সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কথা জানায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথ সাময়িকভাবে খুলে দিতে রাজি হয়েছে।

ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার মধ্যেই এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।