ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি: দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: দিনে ১৫ জাহাজ চলাচল

ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি: দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইরান হরমুজ প্রণালি সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কঠোর শর্ত ও প্রটোকল জারি

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে প্রতিটি জাহাজকে তাদের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্রটোকল মেনে চলতে হবে। বর্তমানে দিনে ১৫টিরও কম জাহাজকে এই প্রণালি পাড়ি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সব ধরনের জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমতি ও কঠোর শর্ত সাপেক্ষে পরিচালিত হবে।

নতুন এই ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। তাদের তত্ত্বাবধানে জারি করা বিধিমালা অনুযায়ী প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে এই জলপথে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, ফলে এর ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই নির্ভরশীল। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে রেখেছিল তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল।

প্রণালি বন্ধ থাকলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন মানচিত্র ও টোল আদায়ের পরিকল্পনা

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান আগেই জানিয়েছিল, নিয়ন্ত্রিতভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী এখন নতুন শর্ত ও প্রটোকল জারি করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় জাহাজ চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় পরিচালিত হবে।

বুধবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর প্রণালির নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের প্রচলিত পথ এড়িয়ে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রধান নৌপথে মাইন থাকার আশঙ্কা থাকায় নতুন নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি হতে পারে। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে ১ ডলার করে টোল আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এই অর্থ সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হতে পারে।