সুদানে ড্রোন হামলায় ১২ বেসামরিক নাগরিক নিহত, শিশুদের মৃত্যুতে শোক
সুদানে ড্রোন হামলায় ১২ বেসামরিক নাগরিক নিহত

সুদানে ড্রোন হামলায় ১২ বেসামরিক নাগরিক নিহত, শিশুদের মৃত্যুতে শোক

সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের কুতুম শহরে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র এবং মানবাধিকার কর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীও অন্তর্ভুক্ত।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

বুধবার সংঘটিত এই হামলাটি আল-সালামা এলাকায় সংঘটিত হয়, যা আল-উম বালিকা বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী। স্থানীয় একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন, এল-ফাশার প্রতিরোধ কমিটি, সরাসরি সেনাবাহিনীকেই এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আনা ১২ জনের মৃতদেহের পাশাপাশি ১৬ জন আহত ব্যক্তিকেও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন সুদানের সেনাবাহিনী এবং প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস উভয় পক্ষই ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এপ্রিল ২০২৩ সাল থেকে চলমান এই যুদ্ধে ড্রোন হামলা একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ড্রোন হামলায় ৫০০-এরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এই সংঘাত ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং ১১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। জনবহুল এলাকায় উচ্চ প্রযুক্তির এবং অপেক্ষাকৃত সস্তা অস্ত্রের ব্যবহারের ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

স্থানীয় সূত্রগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এল-ফাশার প্রতিরোধ কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলা সরাসরি বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। শিশু ও নারীদের মৃত্যু এই সংঘাতের নির্মমতা আরও প্রকট করে তুলেছে।

সুদানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ড্রোন হামলার মতো প্রযুক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিক জনগণের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানানো হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।