লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঝুঁকিতে ফেলা ইরানের জন্য 'বোকামি' হবে: জেডি ভ্যান্স
লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে ফেলা ইরানের 'বোকামি': ভ্যান্স

লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঝুঁকিতে ফেলা ইরানের জন্য 'বোকামি' হবে: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে যদি ইরান ঝুঁকিতে ফেলে, তবে সেটি তাদের জন্য একটি 'বোকামি' সিদ্ধান্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি ও মার্কিন বক্তব্য

মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সম্মত হয়নি। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান যদি লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ভেঙে দিতে চায়, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, এই সংঘাতে ইরান নিজেরাই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং লেবাননের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বলে নি যে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ। 'এটি করা ইরানের জন্য বোকামি হবে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে'—বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভ্রান্তি

এর আগে একই দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিবৃতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন এবং সেখানে লেবাননের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্তসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে হয় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে, নয়তো ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে; এই দুটি পথ একসঙ্গে চলতে পারে না।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, লেবানন কখনোই এই চুক্তির অংশ ছিল না। ভ্যান্স এই ভিন্নমতকে 'ভুল বোঝাবুঝি' হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরান সম্ভবত ভেবেছিল যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

আলোচনায় বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় এই ধরনের বিভ্রান্তি কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে কেন লেবাননের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি। এই অস্পষ্টতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়। বুধবার লেবাননে তাদের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও ১,১০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। যদিও ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এগিয়ে নিতে ইসরাইল কিছুটা সংযম দেখাতে পারে।

লেবাননের অভ্যন্তরীণ চাপ ও ইরানের হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে, লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহ-এর ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, ইরানের সমর্থনে দেশটিকে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেওয়া থেকে পিছপা হবে না।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, লেবাননে আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা পুনরায় যুদ্ধে জড়াবে। সংস্থাটি জানায়, লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আক্রমণকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এই হুমকি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সংকটের ভবিষ্যৎ গতিপথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন।