লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফ্রান্সের জোরালো আহ্বান
ফ্রান্স লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পূর্ববর্তী আহ্বানের সাথে মিলে যায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননের জন্যও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক ব্যাপক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলাগুলো অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
ইসরাইলের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি
এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইল লেবাননে এক ভয়াবহ হামলা চালায়, যাতে অন্তত ২৫৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ বৃদ্ধি করেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন
ফ্রান্সের এই আহ্বানের সাথে সুর মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, বিশেষ করে যেখানে ইসরাইল প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অবশ্যই টোলমুক্ত হতে হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে জানিয়েছেন যে, তার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করলেও সতর্ক করেছেন যে, এটি এখনো ভঙ্গুর শান্তি এবং এটি একটি স্থায়ী চুক্তিতে পরিণত হওয়া উচিত।
মার্কিন অবস্থান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন যে, লেবাননে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে ইসরাইলের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি নেয়নি। তবে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। এই বিবৃতি আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সামগ্রিকভাবে, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের যৌথ দাবি লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরাইলের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব নেতারা একটি টেকসই সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোর দিচ্ছেন।



