হরমুজ প্রণালির অবস্থা নিয়ে দ্বন্দ্ব: খোলা নাকি বন্ধ?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালির অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খোলা নাকি বন্ধ, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে।
ইরানের দাবি: প্রণালি বন্ধ, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জাহাজগুলোকে বার্তা দিয়েছে যে, প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে জাহাজ ধ্বংস করা হবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ প্রণালির কাছে এসেও ফিরে গেছে। এ ঘটনায় ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ আছে। তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য: প্রণালি খোলা, জাহাজ চলাচল বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার খবর 'সঠিক নয়'। তিনি দাবি করেছেন, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বাড়ছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে প্রণালিটি 'খোলা আছে'।
বিকল্প রুট ঘোষণা ও বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব
আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন ও বিকল্প রুট ঘোষণা করেছে। মূল সমুদ্রপথে থাকা মাইন এড়াতে এই রুট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দিতে রাজি হয়েছে, যা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গত মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লম্ফন দেখেছে। বিশ্লেষকরা আশা করছিলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রণালি খুললে জ্বালানির দাম কমে আসবে। তবে বর্তমান দ্বন্দ্বের কারণে এই আশা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



