ইরানের হুঁশিয়ারি: ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ওই সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইসরাইল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ না করে, তবে ইরান এই চুক্তি আর মেনে চলবে না। ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননের ‘ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই ইসরাইলি বাহিনী লেবাননজুড়ে একের পর এক বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে এই চুক্তির নজিরবিহীন লঙ্ঘন করেছে বলে ইরান অভিযোগ করেছে। বর্তমানে তেহরান পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি বাতিলের ঘোষণা দিতে পারে।
ইসরাইলের ব্যাপক হামলা
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের ১০০টিরও বেশি স্থানে সমন্বিত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমান অভিযানের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা বলে সামরিক সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।
মূলত গত ২রা মার্চ হিজবুল্লাহর একটি আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকেই ইসরাইল লেবাননের অভ্যন্তরে বিমান ও স্থল অভিযান তীব্রতর করে। যদিও এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবে তা মাঠ পর্যায়ে টেকসই হয়নি বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
লেবাননে ক্ষয়ক্ষতি
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি এই অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৫৩০ জন নিহত এবং ৪,৮১২ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিধ্বস্ত জনপদে উদ্ধারকারীরা এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
- নিহতের সংখ্যা: ১,৫৩০ জন
- আহতের সংখ্যা: ৪,৮১২ জন
- হামলার স্থান: ১০০টিরও বেশি
- সময়কাল: মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে
মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা
এমতাবস্থায় ইরানের এই নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা দুই সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে শুরুতেই বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটের প্রভাব শুধু লেবানন বা ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও ব্যাহত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন।



