লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় ৮৯ জন নিহত, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরই আক্রমণ
লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত ও আট শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আলজাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে। এই ভয়াবহ হামলা বুধবার বৈরুতে চালানো হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সংঘটিত হয়েছে।
পার্লামেন্ট স্পিকারের তীব্র নিন্দা
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই নির্বিচার হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি, বেকা উপত্যকার বিশাল এলাকা, মাউন্ট লেবানন, সিদন এবং দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু গ্রামে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।" জনবহুল এসব এলাকায় হামলার ফলে কয়েক শ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষা
নাবিহ বেরি আরও উল্লেখ করেন যে, আজকের এই অপরাধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও কনভেনশনের প্রতি এক চরম অবজ্ঞা। তিনি অভিযোগ করেন যে ইসরায়েল নিরন্তরভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে এসব নিয়ম লঙ্ঘন করে চলেছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর উলঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর ঘোষণা সত্ত্বেও হামলা
ইসরাইলের এই ব্যাপক বিমান হামলার আগে হিজবুল্লাহ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ইসরাইলে হামলা স্থগিত রেখেছে। তবে হিজবুল্লাহর এ ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলের বিমানবাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এই হামলার ফলে লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে।



