পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি, ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘সব জায়গায়’, বিশেষ করে লেবাননসহ, তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত থামাতে তার সরকারের মধ্যস্থতায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শাহবাজ শরিফের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া একটি পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সর্বত্র, লেবাননসহ, অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে—এ ঘোষণা দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’ তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হবে এবং সেখানে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আয়োজন করা হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে। আগামী দিনগুলোতে আরও সুসংবাদ দিতে পারব বলে আশা করছি।’ এই মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আওতাভুক্ত নয় এবং লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নীতিগত সমর্থন জানালেও লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে আসা যাতে দেশটি আর কোনোভাবেই পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে।
ইসরায়েল এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পথকে সাধুবাদ জানালেও নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। নেতানিয়াহুর এই কঠোর বার্তা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাময়িক সমঝোতাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি জটিল মোড় নিয়েছে। পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের অবস্থান অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন:
- ইসলামাবাদ আলোচনা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
- ইসরায়েলের লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তি পারমাণবিক ও সন্ত্রাসবিরোধী উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রশংসা পেলেও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। আগামী দিনগুলোতে ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল এবং ইসরায়েলের নীতির পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই বিশেষ নজর রাখার বিষয় হয়ে উঠবে।



